জেলা 

একাদশ শ্রেণির ছাত্রীর বিবস্ত্র লাশ মিলল গাইঘাটায়, ধর্ষণ করে খুন তদন্তে পুলিশ! আটক আত্মীয়!

শেয়ার করুন

উত্তর ২৪ পরগনার গাইঘাটায় একাদশ শ্রেণির ছাত্রীর রহস্যমৃত্যু। শনিবার রাতে জলসা দেখতে দিয়ে আর বাড়ি ফিরল না কিশোরী। সকালে প্রতিবেশীর বাড়ির পিছন দিক থেকে বিবস্ত্র অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে তার ক্ষতবিক্ষত দেহ। গাইঘাটা থানার পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। কিশোরীর এক আত্মীয়কে প্রাথমিক সন্দেহের বশে আটক করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে খবর, ১৭ বছর বয়সি ওই কিশোরী শনিবার রাতে বাড়ির কাছেই আয়োজিত জলসা অনুষ্ঠান দেখতে গিয়েছিল। তার বন্ধুবান্ধব, পরিবারের সদস্যেরাও ছিলেন। জলসা অনেক রাত পর্যন্ত চলে। পরিবারের দাবি, রাত সাড়ে ১১টা নাগাদ কিশোরীর কাছে একটি ফোন এসেছিল। ফোন পেয়ে সে অনুষ্ঠান ছেড়ে বেরিয়ে যায়। তার পর আর ফেরেনি। রাতে তাকে খুঁজে না পেয়ে চিন্তায় ছিল পরিবার। প্রায় সারা রাত খোঁজাখুঁজি চলেছে। সকালে উদ্ধার হয়েছে দেহ।

কিশোরীর এক মামি বলেন, ‘‘গতকাল আমাদের এখানে অনুষ্ঠান ছিল। বাড়ি থেকে ৮টা নাগাদ বেরিয়েছিলাম আমরা। রাস্তায় ওর সঙ্গে দেখা হয়। বলেছিল, বান্ধবীর সঙ্গে জলসায় যাবে। তাই আমরা চলে গিয়েছিলাম। অনুষ্ঠান শেষে আমরা বাড়ি ফিরি। শুনি, ও ফেরেনি। ফোন করেছিলাম, কিন্তু ফোনটা ওয়েটিংয়ে ছিল। নেটওয়ার্কের সমস্যা ভেবে আমরা ঘুমিয়ে পড়ি। পরে সকালে শুনছি এই কাণ্ড।’’

এই ঘটনার সঙ্গে একাধিক ব্যক্তিও জড়িত থাকতে পারেন বলে পুলিশের সন্দেহ। প্রাথমিক ভাবে এক জনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। নেপথ্যে আরও কেউ আছেন কি না, কিশোরীর সঙ্গে কী সম্পর্ক, কিসের আক্রোশ, খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কিশোরীর দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে পুলিশ। মৃত্যুর কারণ সেই রিপোর্ট এলেই বোঝা যাবে। তাকে ধর্ষণ করা হয়েছিল কি না, তা-ও এখনও স্পষ্ট নয়। পুলিশ তাই ময়নাতদন্তের রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা করছে। গাইঘাটা থানার এক আধিকারিক জানিয়েছেন, তদন্ত চলছে। এক জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তবে এর চেয়ে বেশি কিছু পুলিশ এখনই বলতে পারছে না। কিশোরীর দেহ উদ্ধারের বিষয়টি তারা নিশ্চিত করেছে। তা ছাড়া, সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় অন্য কোনও অভিযুক্ত বাংলাদেশে পালিয়ে গিয়েছেন কি না, খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

গাইঘাটার বিধায়ক সুব্রত ঠাকুর বলেন, ‘‘ধর্ষণ সমাজের একটা ব্যাধি। এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। এই ধরনের ঘটনা একেবারেই কাম্য নয়। আমি এবং আমার দল মেয়েটির পরিবারের পাশে আছি। যে বা যারা এই জঘন্য কাজ করেছে, তাদের কঠোর থেকে কঠোরতম শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। একজন ধরা পড়েছে। গাইঘাটা থানার আইসির সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। পকসো আইনি মামলা রুজু করা হয়েছে। তদন্ত চলছে। এই ধরনের ঘটনায় সর্বোচ্চ শাস্তি দরকার।’’

সৌজন্যে ডিজিটাল আনন্দবাজার।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ